সরকারি সাঁকো বন্ধ করে ব্যবসায়ী ফারুকের প্লট ব্যবসা, নিঃস্ব ১০০ একর জমির হাজারো কৃষকচাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কের পাউলি এলাকায় সরকারি সাঁকো বন্ধ করে আবাসন প্রকল্পের নামে মাটির ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ফারুকের বিরুদ্ধে। এতে আমনুরা ও আশপাশের প্রায় ৮ থেকে ১০টি মাঠের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, পাউলি এলাকায় প্রধান সড়কের ওপর থাকা সরকারি সাঁকোর রেলিং ও পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় বিভিন্ন মাঠের পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। ফলে প্রায় ১০০ একর কৃষিজমি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে। এসব জমির ওপর নির্ভরশীল প্রায় হাজারখানেক কৃষক বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।কৃষকদের দাবি, আবাসন প্রকল্পের নামে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাটি কাটা ও মাটির ব্যবসা করা হচ্ছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কারণে পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ পথ সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি মাঠে জমে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আমনুরা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।স্থানীয়রা আরও জানান, সাঁকোটি শুধু পানি নিষ্কাশনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাঁকোর কারণে পানি চলাচল বন্ধ থাকলে অতিরিক্ত পানির চাপ সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা প্রধান সড়কের ওপর পড়তে পারে। এতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যান চলাচলও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ভুক্তভোগী কৃষকরা বলছেন, ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থে সরকারি জমি ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবেন সাধারণ কৃষকরা। ইতোমধ্যে জমিতে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। দ্রুত সাঁকোটি উন্মুক্ত করে পানি চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হলে তিনি ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি, সরেজমিন তদন্ত করে সরকারি জমি, সাঁকো ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। পাশাপাশি আবাসন প্রকল্পের নামে মাটি কাটা ও মাটির ব্যবসার বৈধতাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আসন্ন ভারী বৃষ্টিতে প্রায় ১০০ একর জমি ও প্রধান সড়ক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ফারুকের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।