সার বিতরণে নতুন উদ্যোগ, বিলুপ্ত হচ্ছে খুচরা বিক্রি ও সাব-ডিলার ব্যবস্থা
টাইমস বাংলা নিউজ বিডি
১৮আগস্ট ২০২৬

সার বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কমাতে বিতরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে খুচরা বিক্রি ও সাব-ডিলার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পরিবর্তে সরাসরি ডিলারভিত্তিক সার বিতরণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে সার বিতরণ ব্যবস্থায় নজরদারি আরও জোরদার হবে।
একই সঙ্গে ডিলারদের কার্যক্রমের ওপর মনিটরিং বাড়ানো সম্ভব হবে।
সারের সরবরাহ, মজুত ও বিক্রির তথ্যও তুলনামূলক সহজে নজরদারির আওতায় আনা যাবে।
বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় ডিলারের পাশাপাশি সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে সার বিক্রি হয়ে থাকে।
এই বহুস্তরীয় ব্যবস্থায় কোথাও কোথাও জটিলতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষকের কাছে সার পৌঁছাতে মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা বাড়লে দাম ও সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ছাড়া কৃত্রিম সংকট তৈরি কিংবা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে সরাসরি ডিলারভিত্তিক বিতরণ ব্যবস্থার কথা ভাবছে সরকার।
নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমেই কৃষকের কাছে সার সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফলে সার বিতরণের প্রতিটি ধাপে দায়িত্ব নির্ধারণ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে ডিলারদের জবাবদিহির আওতায় আনা সহজ হবে।
কোন ডিলার কত সার পেলেন এবং কত পরিমাণ বিক্রি করলেন, তার হিসাব রাখা সম্ভব হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে কৃষক, ডিলার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কেউ কেউ মনে করছেন, এতে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে।
তাদের মতে, মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমলে কৃষক সরাসরি নির্ধারিত মূল্যে সার পেতে পারেন।
অন্যদিকে সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশ এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তাদের আশঙ্কা, সরাসরি ডিলারভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে স্থানীয় পর্যায়ে সার বিক্রির সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের সার সংগ্রহে অতিরিক্ত দূরত্ব পাড়ি দিতে হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
কৃষকদের একটি অংশও বলছেন, নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি।
কারণ সব এলাকার কৃষকের জন্য ডিলারের কাছে গিয়ে সার সংগ্রহ করা সমান সহজ নাও হতে পারে।
কৃষি মৌসুমে সার সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে এর প্রভাব সরাসরি কৃষকের ওপর পড়তে পারে।
তাই নতুন ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ডিলার নিয়োগের দাবি উঠেছে।
ডিলারদের মজুত সক্ষমতা ও বিক্রয়কেন্দ্রের অবস্থানও যথাযথভাবে নির্ধারণের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকদের যাতে নির্ধারিত দামের বেশি অর্থ দিতে না হয়, সেদিকেও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
একই সঙ্গে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ বন্ধ করার দাবি রয়েছে।
সার বিতরণে ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ ও নিয়মিত তদারকি কার্যকর করা হলে অনিয়ম কমতে পারে।
কৃষকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থাও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিতরণ পদ্ধতি পরিবর্তন করলেই হবে না, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
ডিলারদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের তদারকি ব্যবস্থাকেও কার্যকর করতে হবে।
তাহলেই কৃষকের কাছে সময়মতো এবং ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সার বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে বাস্তবায়নের আগে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতামত নেওয়া হলে জটিলতা কমবে বলে মনে করছেন অনেকে।
সবার প্রত্যাশা, নতুন ব্যবস্থা যেন কৃষকের সুবিধা বাড়ায় এবং সার নিয়ে অনিয়ম ও হয়রানি কমায়।
শেষ পর্যন্ত কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিই নির্ধারণ করবে নতুন এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে।