গোদাগাড়ীতে খুচরা সার ডিলারের ৫৫০ বস্তা ডিএপি ও এমওপি জব্দ
গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: সজিব ইসলাম সৈকত
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে খুচরা সার ডিলার মেসার্স এমদাদুল ট্রেডার্স থেকে ৫৫০ বস্তা ডিএপি ও এমওপি সার জব্দ করেছে প্রশাসন।
অভিযানকালে জব্দ করা সার পরবর্তীতে ন্যায্যমূল্যে সরাসরি কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে।
খুচরা সার ডিলারের দাবি, তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা বেশি দামে বিসিআইসি সার ডিলারের কাছ থেকে সার কিনে আনতে বাধ্য হন।
তাদের অভিযোগ, সরবরাহ পর্যায়ে বেশি দামে সার কেনার পর খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে অভিযান ও জব্দের ঘটনায় খুচরা সার ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
খুচরা ডিলারদের অভিযোগ, সার সরবরাহ ব্যবস্থার মূল পর্যায়ে কোথা থেকে এবং কী দামে সার আসছে—সেটি যথাযথভাবে খতিয়ে না দেখে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, তারা যে দামে সার কিনেছেন, সেই ক্রয়মূল্যের প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখানোর পরও সমস্যার মূল উৎসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সাধারণ কৃষকরাও প্রশ্ন তুলেছেন, খুচরা পর্যায়ে সার জব্দ করে কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হলেও সরবরাহের আগের ধাপের অনিয়মের বিষয়ে কেন একইভাবে অভিযান হচ্ছে না।
কৃষকদের ভাষ্য, সার সংকট ও দামের চাপের কারণে তারা এমনিতেই বিপাকে রয়েছেন।
তাদের মতে, সার সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
খুচরা ডিলারদের অভিযোগ, দেশজুড়ে গত কয়েকদিনে কয়েকশ খুচরা সার ব্যবসায়ী অভিযানের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অনেক ব্যবসায়ী ধার-দেনা করে সার কিনে কৃষকদের কাছে বাকিতে সার সরবরাহ করেন।
কৃষকরা ফসল বিক্রি করার পর সেই টাকা দিয়ে খুচরা ডিলারদের বকেয়া পরিশোধ করেন—এমন একটি প্রচলিত ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ এলাকায় চলে আসছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
কিন্তু সার জব্দ, জরিমানা ও ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে অনেক খুচরা ডিলার এখন মূলধন হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
খুচরা সার ব্যবসায়ীরা বলেন, অভিযানের আগে তাদের সার কেনার উৎস, ক্রয়মূল্য এবং সরবরাহ চেইনও তদন্ত করা প্রয়োজন।
তাদের প্রশ্ন, বেশি দামে সার কিনে যদি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে হয়, তাহলে সেই আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে?
তারা আরও বলেন, শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান চালালে সার বাজারের প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না।
সাধারণ কৃষকরাও মনে করছেন, সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম থাকলে উৎপাদন ও সরবরাহের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো চেইনকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
খুচরা ডিলারদের দাবি, অভিযানের পাশাপাশি তাদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে যাচাই করা হোক।
তাদের ভাষ্য, একদিকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে সেই সার জব্দ হওয়ায় তাদের পুঁজি ও ব্যবসা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ফলে সার বিতরণ ব্যবস্থায় প্রকৃত অনিয়ম কোথায় হচ্ছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।