চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, ঝিলিমে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের স্ত্রীর নিয়োগ ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৩ নম্বর ঝিলিম ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সার ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, দলীয় তদবির ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ওই ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক তসিকুল ইসলাম তসির সহধর্মিণী নাসরিনা আক্তার নাসরিনা।
স্থানীয় কয়েকজন সার ব্যবসায়ী ও ডিলার পদে আবেদনকারীর দাবি, নাসরিনা আক্তার নাসরিনা এর আগে সার ডিলার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ফলে তাঁর নিয়োগের যোগ্যতা ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অভিযোগকারী আবেদনকারীদের ভাষ্য, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্ধারিত যোগ্যতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। অথচ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তদবিরের কারণে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ডিলারশিপের আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন আবেদনকারী। তাঁদের প্রশ্ন, আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি থাকলে কীভাবে একজন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগ পেলেন?
তবে আবেদনপত্র অসম্পূর্ণ থাকার অভিযোগের সত্যতা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয় সার ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, সার ডিলার নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, সার সরবরাহ ও বিতরণের সঙ্গে সরাসরি কৃষকদের উৎপাদনব্যবস্থা জড়িত।
তাঁদের আশঙ্কা, নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হলে ভবিষ্যতে সার বিতরণব্যবস্থা ও স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, কৃষকদের স্বার্থে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারী প্রার্থীরা নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আবেদনপত্র, যোগ্যতার সনদ এবং মূল্যায়নসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সব প্রার্থীর যোগ্যতা একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হলে বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন— নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীর যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, আবেদনপত্রের সব শর্ত পূরণ করা হয়েছিল কি না এবং অভিজ্ঞ আবেদনকারীদের বাদ পড়ার কারণ কী?
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সার ব্যবসায়ী ও আবেদনকারীরা।
সার ডিলার নিয়োগের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
রিপোর্টার: হাসান খান
টাইমস বাংলা নিউজ বিডি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ