কৃষকের রক্ত চুষে খাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিএডিসি ও বিসিআইসি সার ডিলাররা!
হাসান খান, টাইমস বাংলা নিউজ বিডি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কৃষি চাষযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ৮৩২ হেক্টর।
এর সিংহভাগ জমিতেই ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ হয়ে থাকে।
ফলে কৃষি উৎপাদনে রাসায়নিক সারের ওপর জেলার কৃষকদের নির্ভরশীলতা অনেক বেশি।
চলতি মৌসুমে জেলায় দেখা দিয়েছে সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ।
বিএডিসি ও বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলারদের কাছে সার থাকলেও কৃষকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
অনেক কৃষক অভিযোগ করছেন, চাহিদা অনুযায়ী সরকারি মূল্যে সার পাচ্ছেন না তারা।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকদের একটি অংশ।
কৃষকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় অল্প পরিমাণ সার সরকারি মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
এরপর প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সার নিতে গেলে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল ওহাব এমনই অভিযোগ করেছেন।
তিনি জানান, তিনি প্রায় ২২ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন।
তার জমির জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৮ বস্তা সার।
কিন্তু ডিলারের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে মাত্র ২ বস্তা ডিএপি ও ৩ বস্তা পটাশ পেয়েছেন তিনি।
ডিএপি সার সরকারি মূল্যে বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকা এবং পটাশ ১ হাজার টাকা দরে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় বাকি সার নিতে গেলে বেশি দাম দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষক আব্দুল ওহাবের।
তার অভিযোগ, ডিএপি সারের বস্তা প্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।
এতে কৃষকদের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, শুধু একজন নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক কৃষক একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন।
সার সংকটকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।
সময়মতো প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় অনেক কৃষক ফসলের উৎপাদন নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন।
অন্যদিকে বেশি দামে সার কিনতে গিয়ে বেড়ে যাচ্ছে কৃষকের উৎপাদন খরচ।
ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে লাভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষকদের প্রশ্ন, সরকারি বরাদ্দের সার পর্যাপ্ত থাকার পরও কেন বাজারে এমন সংকট তৈরি হচ্ছে?
সরকারি মূল্যে বরাদ্দকৃত সার কৃষকের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
কৃষকদের দাবি, সার বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন।
অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
