বাজেট ২০২৬-২৭; কোন খাতে কত?
বাজেট ২০২৬-২৭: কোন মন্ত্রণালয়ে কত বরাদ্দ, কোথায় কৃষকের প্রত্যাশা?
ঢাকা, ১১ জুন ২০২৬:
টাইমস বাংলা অনলাইন প্রতিবেদন
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাত বরাদ্দের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পেয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা।
স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ হয়েছে ৪০ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পেয়েছে ৩৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পেয়েছে ৩০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা।
অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পেয়েছে ১৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা।
বিদ্যুৎ বিভাগে বরাদ্দ হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পেয়েছে ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উচ্চ বরাদ্দ মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকার ও সড়ক বিভাগের বরাদ্দও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে কৃষি খাতের বরাদ্দ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কৃষি নির্ভর দেশের জন্য আরও বেশি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভর্তুকি বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
সার, বীজ ও সেচ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।
প্রস্তাবিত বাজেট এখন সংসদীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হবে।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
সামগ্রিকভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাত এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে কৃষি খাতের বরাদ্দ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে কৃষক সমাজ আরও বেশি সহায়তা প্রত্যাশা করছে।
এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত বাজেটে কৃষি খাতে কোনো নতুন উদ্যোগ বা অতিরিক্ত বরাদ্দ যুক্ত হয় কি না।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
