২৬-২৭ বাজেটে আবারও কৃষকের মাথায় হাত
অনলাইন প্রতিবেদন টাইমস বাংলা নিউজ. বিডি
২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: কৃষকের দূরাবস্থা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে দেশের কৃষক সমাজে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ কমিয়ে প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় কম। একই সঙ্গে সার ও কৃষি উপকরণে ভর্তুকিও হ্রাস করা হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও তাদের জন্য নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রণোদনা রাখা হয়নি। ফলে চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক কৃষক।
এদিকে বাজেটে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ধান, চাল, গম, আলু, বিভিন্ন সবজি, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেল।
তবে কৃষকদের দাবি, শুধু ভোক্তাপর্যায়ে দাম কমলে হবে না, উৎপাদক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা বলছেন, সেচ খরচ, শ্রমিক মজুরি ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। অথচ ফসলের বাজারমূল্য সেই হারে বাড়েনি।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। কৃষকের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কৃষক নেতারা মনে করেন, বর্তমান বাজেট কৃষিবান্ধব না হয়ে বরং কৃষকদের প্রতি কিছুটা বৈষম্যমূলক হয়েছে। তারা কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, ভর্তুকি পুনর্বহাল এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই হতে পারে টেকসই অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। :::
